ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে শতাধিক আহত, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজারে আধিপত্য নিয়ে দ্বিতীয় দফায় চার গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলতে থাকায় পুরো এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের নারী, পুরুষ এবং কিশোররা মিলিয়ে কমপক্ষে একশোর বেশি মানুষ আহত হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এই সংঘর্ষ পুনরায় বাধেঁ। সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ছিলেন মুনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্যদিকে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া গ্রামের সমর্থকরা। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চার গ্রামের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় খাপুরা গ্রামের তিন যুবককে আখের রস খাওয়া নিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এর জের ধরে প্রথম দফায় সন্ধ্যার কিছু পরে ২ ঘণ্টার জন্য সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত হলে তা বন্ধ হয়ে যায়। এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

সকালেই উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হয় এবং এরপর থেকে আবারও সংঘর্ষের সূচনা হয়। এতে মুনসুরাবাদ এলাকায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। দোতালার ছাদ থেকে দোকান, বাসা-বাড়ির ছাদ থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকে ব্যাপক ধাওয়া-ধাওয়া। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দাবি করেন, দাঙ্গা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জরুরি পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

সহকারী পুলিশ সুপার ভাঙ্গা সার্কেল মো. রেজোয়ান দীপু জানান, গতকাল সংঘর্ষ প্রথম দফায় কিছুটা কমলেও আজ ভোর থেকে আবার শুরু হয়েছে। তারা নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। আরম্ভের চেয়ে এখন কিছুটা হলেও কমে এসেছে সংঘর্ষ, তবে পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। প্রচুর হতাহতের আশঙ্কা থাকায় তা এখনো সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কনেস্টর, মশিউর রহমানও গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যাও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।