ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিশ্বকাপের ৪৮টি দল চূড়ান্ত, গ্রুপিং ও ফিকশ্চারও সম্পন্ন

আড়াই মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে। শেষ প্লে-অফ ম্যাচগুলো গতকাল ও আজ (বুধবার) মিলিয়ে খেলা হয়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালের আপনারী মেগা টুর্নামেন্টের সব ৪৮টি দল চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং গ্রুপিং-ফিকশ্চারও নিশ্চিত হয়েছে।

দুইদিনের প্লে-অফে ছয়টি দলের যোগের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের মূলপর্বের সব আসন পূর্ণ হলো। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার স্বপ্ন পূরণ করল ইরাক — এভাবেই তারা চূড়ান্ত ৪৮তম দল হিসেবে যোগ করে ফেলল।

প্লে-অফ থেকে আরোহীদের মধ্যে রয়েছেন বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, সুইডেন এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা গেল চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিশ্বকাপ বর্জন — প্লে-অফে বসনিয়ার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে তারা হারিয়ে টানা তিনটিতে বিশ্বকাপের মূলপর্বের বাইরে রইল।

ইতালি-বসনিয়া ম্যাচে নিয়মিত সময় শেষে স্কোর ছিল ১-১। অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। শুটআউটের প্রথম শটে বসনিয়ার বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ গোল করলে ইতালির পিও এস্পোসিতো প্রথম শটটা পায় না। পরে দুই দলের দ্বিতীয় শটে উভয়েই গোল পেলেও শুটআউটে বসনিয়া পরের রাউন্ডগুলোতে ভালো করে এবং ইতালিয়ানদের কয়েকটি শট ভাঙায় বসনিয়া ৪-১ ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পায়।

পোল্যান্ডও রবার্ট লেভানডอฟস্কির নেতৃত্বে টিকে থাকতে পারেনি; তাদের বিরুদ্ধে সুইডেন ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় এবং সুইডেন ২০২৬ বিশ্বকাপে স্থান করে নেয়। কসোভোকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এল তুরস্ক।

চেক প্রজাতন্ত্র ও ডেনমার্কের লড়াইও টাইব্রেকারে নিষ্পন্ন হয়েছে — নিয়মিত সময়ে ২-২ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে চেকরা ৩-১ গোলে জয়লাভ করে এবং ২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে (সর্বশেষ তারা ২০০৬ সালে অংশ নিয়েছিল)। অন্যদিকে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কেটে নেয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো।

প্লে-অফের এই ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে এখন মার্চেন্ট টুর্নামেন্টের গ্রুপগুলো চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। আসন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচসহ সূচি ঘনিয়ে আসায় সব দল তাদের প্রস্তুতি জোরদার করতে শুরু করেছে। ফাইনাল টুর্নামেন্ট হবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশগ্রহণ করবে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

চূড়ান্ত গ্রুপসংকলন (A–L):

এ গ্রুপ : চেক প্রজাতন্ত্র, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া

বি গ্রুপ : বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড

সি গ্রুপ : ব্রাজিল, হাইতে, মরক্কো, স্কটল্যান্ড

ডি গ্রুপ : অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র

ই গ্রুপ : জার্মানি, কুরাসাও, ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট

এফ গ্রুপ : নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন, তিউনিসিয়া

জি গ্রুপ : বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড

এইচ গ্রুপ : স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, কেপ ভার্দে

আই গ্রুপ : ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, ইরাক

জে গ্রুপ : আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান

কে গ্রুপ : পর্তুগাল, কলম্বিয়া, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উজবেকিস্তান

এল গ্রুপ : ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা

নোট: প্লে-অফ পরিণতি অনুযায়ী জ্যামাইকাকে স্থান থেকে সরিয়ে ডিআর কঙ্গো গ্রুপ কেএর সদস্য হয়েছে এবং ইরাক আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে উঠে গেছে।

আগামী সময়ে প্রত্যেক গ্রুপের প্রথম ম্যাচ দেখে টুর্নামেন্টের চেহারা আরও স্পষ্ট হবে; জল্পনা-কল্পনা কমবে এবং দলগুলোর প্রকৃত প্রস্তুতি ও মানচিত্র দেখা যাবে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় — কোন দল সফল করবে, কারা সাড়া দেবে, তা জানা বাকি।