ঢাকা | শুক্রবার | ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

নেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফাইনালে বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। মালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন মানিক।

২০২৪ সালে টুর্নামেন্টটি অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিরোপা জেতা বাংলাদেশ এবারও শিরোপা রক্ষা করতেই মালে এসেছিল। নেপালকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল আবার শিরোপা লড়াইয়ে ফিরেছে। বাংলাদেশের ফাইনালে কার মুখোমুখি হবে, তা আজ রাতের ভারত ও ভুটান ম্যাচের পর চূড়ান্ত হবে।

ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক। প্রথম থেকেই তারা গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণ গঠন করছিল এবং দশ মিনিটের একটু বেশি সময় পরই ফল পায় দলটি। মোর্শেদের চিপ পাসকে ভেতরে লাফিয়ে হেড করে নেট জালে পাঠান মানিক, আর গোলের পর মালে স্টেডিয়ামের গ্যালারি কোরে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। স্টেডিয়ামে উপস্থিত অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী দর্শকও আনন্দ ভাগ করে নেন।

পরের কিছু মুহূর্তে বাংলাদেশ আরেকটি লক্ষ্যযোগ্য সুযোগ তৈরি করে। রোনান সুলিভান ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে গোলরক্ষককেও কাটিয়ে বল জালে পাঠালে কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইড পতাকা তোলেন। বাংলাদেশের ডাগআউট তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করলেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে এবং প্রথমার্ধের খেলা ১-০-েই শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম ২০-৩০ মিনিট নেপাল বেশ চাপ সৃষ্টি করে। কিছু গোলোদাগী আক্রমণ করেও সফল হতে পারেনি তারা—বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে টিকে রাখেন। পাল্টা আক্রমণও ছিল বাংলাদেশের, ও দুদলই বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় বদলি করে রণনীতি বদলানোর চেষ্টা করে। কোচ মিশু ম্যাচের শেষের দিকে রোনানের ভাই ডেকলানকে নামান; তিনি বক্সের মধ্যে রোনানকে দুর্দান্ত পাস দেন, কিন্তু রোনানের শট নেপালের ডিফেন্ডার বাধা দেন এবং তা কর্ণারে যায়।

টিন মিনিটে নয়—ম্যাচে যোগ করা ছয় মিনিট ইনজুরি সময়েও দুই দলই জয়ের জন্য তৎপর ছিল, কিন্তু আর কোনো গোল দেখা না যাচ্ছায় বাংলাদেশের জয় ১-০-ই থেকে যায়। ম্যাচ শেষে মালে স্টেডিয়ামের বাংলাদেশি প্রবাসী ভক্তরা তাদের দলের জয়ে উল্লাস করেন।

এই জয়ে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠে নিজেদের লক্ষ্য পূরণের পথে বড় এক পদক্ষেপ নিয়েছে—এবারও শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যাশা জোরালো।