ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কাতার অভিযোগ: উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা করে ইরান বিশ্বাসঘাতকতা করেছে

কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল-থানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে ইরান বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি এই অভিযোগ করেছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের সাংবাদিক ইয়ালদা হাকিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।

শেখ মোহাম্মদ বলেছেন, ‘আমরা—কাতার এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ—বারবার জানিয়েছি যে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আমরা অংশগ্রহণ করব না এবং উত্তেজনা বাড়ানোর পক্ষে নেই। তা সত্ত্বেও যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান আমাদের দেশে নির্বিচারে হামলা চালাতে শুরু করে।’ তিনি এটিকে কাতারের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিপরীতে ‘বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

কাতারীয় নেতা বলেন, তেহরানের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য কাতারের বহু বছরের চেষ্টা রয়েছে; তারপরও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা করে ইরান ‘বিপজ্জনক ভুল’ করছে, যা অঞ্চলকে ধ্বংসের দিকে ধাক্কা দিতে পারে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা সম্ভব নয় এবং উত্তেজনা বাড়লে পুরো অঞ্চল আরও বড় একটি সংঘাতে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

তবে তিনি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কাতার তাত্ক্ষণিক প্রতিশোধমূলক কোনো হামলায় যাওয়া হবে না। ‘আমরা ইরানের সঙ্গে সংলাপ এবং কূটনৈতিক পন্থার মাধ্যমে সংকট নিরসনে কাজ চালিয়ে যাব,’ তিনি বলেছেন এবং যোগ করেছেন, ‘ইরান আমাদের প্রতিবেশী—এটাই আমাদের বাস্তবতা।’

পটভূমি: গত শনিবার সকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে আকস্মিক হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহারে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও অন্যান্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে। তেহরান একই সঙ্গে এসব দেশের সরকারি ভবন ও জ্বালানী অবকাঠামোতেও কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, কিন্তু তারপরে হামলার ধারাবাহিকতা থামেনি।

সূত্র: আল–জাজিরা, স্কাই নিউজ