ঢাকা | রবিবার | ১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

টিউলিপ সিদ্দিকের গ্রেপ্তার ও রেড নোটিশের নির্দেশ

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে দখল করার অভিযোগে শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দেশীয় আদালতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পুলিশের সাহায্য চান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন, যেখানে তিনি ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তকে আরও জোরদার করা হলো।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, গুলশান-২ এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে গ্রহণের অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং মামলার আলামত নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করে, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়ে। সেই জন্যই, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেয়া হয়।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে, ১৮ ফেব্রুয়ারি একই ঘটনায় টিউলিপ সিদ্দিক ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সারদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ ওই মুহূর্তে দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আদালত ৮ মার্চ পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন।

মামলার নথি অনুসারে, দুর্নীতি দমন কমিশন ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিক, মোশাররফ হোসেন ও শাহ মো. খসরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট দখল করেন এবং সেটি তাদের নিজের নামে নিবন্ধন করেন, যেটির জন্য তারা বিলম্বে বা কোনও অর্থ পরিশোধ করেনি।

দুদকের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, এই মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় এবং তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এই কারণেই, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত রেহাই পাওয়া যায়।