ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অর্থনীতিকে চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনই অফিসে এসে তিনি এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের ব্যাংক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থার অবস্থা খুবই খারাপ। তাই প্রথমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব আনতে এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এছাড়া দক্ষতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি, কারণ এগুলো বিহীন কার্যক্রম কোনো লাভ আনবে না।

তিনি আরও বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চালিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়। বাংলাদেশি অর্থনীতি সকল মানুষের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত ও প্রবেশযোগ্য করতে হবে। অর্থনীতিতে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে এবং এর সুফল যেন প্রত্যেক নাগরিকে পৌঁছে যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমাতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ওভার-রেগুলেটেড অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সুপারিশ করা হয়েছিল রেগুলেশনের পরিমাণ কমানোর। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে হবে এবং শক্তিশালী ডিরেগুলেটেড অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।

আসন্ন অর্থনীতির জন্য লিবারলাইজেশন তথা মুক্ত বাজার ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে যাতে সব মানুষ সমান অধিকার পায়। তিনি দৃঢ় করেছেন, সবাই যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং এর সুফল প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে যায়, সেটি নিশ্চিত করা হবে।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নিজের অবদান রাখতে আগ্রহী এবং এ ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উল্লেখ্য, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি আগেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।