ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নিপাহের ছায়ায় অনিশ্চয়তায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ দরজায়, কিন্তু ভারতের সাম্প্রতিক নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আয়োজন সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মূল আয়োজক ভারত ও সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্টটি ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতের পাঁচটি ভেন্যু—আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাই—এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ক্যান্ডির তিনটি ভেন্যুতে মিলিয়ে মোট ৫৫টি ম্যাচ খেলা হবে।

তবে সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে যে, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও ভক্তদের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে। কয়েকটি স্বাস্থ্যসংস্থা ও সংবাদমাধ্যম উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং কিছু কণ্ঠ টুর্নামেন্টটি পুরোপুরি শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে। তেমন আলোচনা চললেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে এবং আউটব্রেকটি আপাতত ছোট আকারের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) এই নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেয়নি।

আন্তর্জাতিক ভ্রমণে কঠোর লেগে যেতে পারে — বিশেষ করে যদি সংক্রমণ বাড়ে। অনেক দেশে ইতোমধ্যে বিমানবন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং বাড়ানো হয়েছে। কোয়ারেন্টিন বিধি বা ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন পুনরায় আরোপ করা হলে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও ভক্তদের খেলার আনন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ (সেমিফাইনালসহ) হওয়ার কথা থাকায় পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি বিশেষভাবে নজরদারি দাবি করছে।

জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে পাঁচ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে নার্স ও ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে এই ক্লাস্টারে এখনও কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ক্লাস্টার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে; ১০০–২০০ জনের বেশি সম্ভাব্য সংস্পর্শ ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে এবং শতাধিক নমুনার পরীক্ষায় বেশিরভাগ নেগেটিভ এসেছে। সূত্রভিত্তিক খবরগুলোতে এই তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগে ২০২৫ সালেও কেরালায় নিপাহ দিয়ে চারটি কেস রিপোর্ট হয়েছিল, যার মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এটিই ২০০৭ সালের পর সবচেয়ে বড় আউটব্রেক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস; মূল উৎস ফলের বাদুবড় (ফ্রুট ব্যাট)। সংক্রমণ সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস বা দূষিত খাদ্য, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ, অথবা ক্লোজ কন্টাক্টে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। উপসর্গ হিসেবে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং গুরুতর ক্ষেত্রে এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) দেখা দিতে পারে। রোগের মৃত্যুর হার ইতিহাসভিত্তিক রিপোর্টে প্রায় ৪০–৭৫% পর্যন্ত ধরা হয়েছে। এ মুহূর্তে নিপাহের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বা নিশ্চিত নিরাময়ের পথ নেই; কিছু ক্ষেত্রে সমর্থনমূলক চিকিৎসা ও পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যদল, সহায়তাকারী চিকিৎসা টিম এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মিলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিষ্পন্দন কিংবা টুর্নামেন্ট সরানোর মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পরিস্থিতি কড়া নজরদারি ও তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

স্বল্প সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর কথা হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণের প্রবণতা, স্থানীয় স্বাস্থ্যবিধি এবং আইসিসি ও আয়োজকদের অনিয়ন্ত্রিত রণনীতি নির্ধারণি ভূমিকা রাখবে। ক্রিকেট প্রেমীরা এবং অংশগ্রহণকারীরা এখন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত আপডেটগুলোর দিকে নজর রাখছেন।