ঢাকা | সোমবার | ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিল এনসিপি

নির্বাচন কমিশনের আপিলের রায়ে বিএনপি প্রার্থীদের অনৈতিক ও নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দিচ্ছে বলে cáoит এনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আজ রোববার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনটি রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে (অস্থায়ী) নির্বাচন কমিশনের আপিলের রায় ও নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ এখন আরও দৃঢ় হয়েছে। যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে আমাদের শঙ্কা শুরু হবে। আমাদের দল ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। তবে আমরা চাই নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হোক। আমরা ন্যায্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে তারা রাজনৈতিক পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে জানান আসিফ। তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অন্তর্ভুক্ত সরকারের প্রধান ও অন্যান্য জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠক করবো। ব্যবসায়িক নেতাকর্মী, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং যারা গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, সবকিছুর উপস্থিতি ও আলোচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি তারা নিজেদের প্রার্থীদের বৈধতা নিয়েও নানা প্রতিবাদ করছে। নির্বাচনের শেষ দিন বিএনপির পক্ষ থেকে বাইরে মিছিল ও ধোৱাধুড়ে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, যা নির্বাচন পরিবেশের জন্য হুমকি।’

তিনি উল্লেখ করেন, রায় ঘোষণের মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন ১৫ মিনিটের বিরতিতে বললেও তারা দেড় ঘণ্টা সময় নিয়ে বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে। যেসব প্রতিনিধির মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাজনৈতিক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছিলেন, সেটিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

আসিফ মাহমুদ মন্তব্য করেন, নির্বাচন কমিশনের এই রায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটি গণতন্ত্রের জন্য সন্দেহজনক সংকেত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণ পরিপূর্ণভাবে মেনে না নিয়ে প্রার্থী হচ্ছেন, বিশেষ করে ঢাকা-১১ আসনের এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ব্যাপারে ব্যাপক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বিএনপির দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বাধা না দিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক्रেটারি মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা প্রমুখ।