ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতের আবেদন

নিরাপত্তার শান্তির জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনও উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্থগিতের জন্য হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। এই রিটটি করেছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান, যা বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দাখিল করা হয়েছে। এখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, আইজিপি এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয়ে থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র ও ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে গেছে। সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে পুরস্কার ঘোষণা করেও বেশিরভাগ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি যা খুবই উদ্বেগজনক।

রিটে আরও বলা হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আগামী নির্বাচনগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত, ঢাকার ৮ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা এই উদ্বেগের একটি বলিষ্ঠ প্রমান। অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ রক্তাক্ত হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সাবেক ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

সরকার কিছু নির্বাচনী প্রার্থীকে গ্যারাজম্যান বা নিরাপত্তাকর্মীর ব্যবস্থা করলেও, সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে, অস্ত্রের উপস্থিতি ও অনিরাপত্তার কারণে নির্বাচনকে রক্তক্ষয়ী করে তুলতে পারে বলে মনে করে রিটের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

অতএব, এই পরিস্থিতিতে রিটের দাবি উঠেছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত সব লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয় এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিরাপদ হয়, ততক্ষণ নির্বাচন স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হোক।