ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সালমান খান ৬০ বছর বয়সে পা রাখলেন

বলিউডের অন্যতম তারকা এবং সিনেমাজগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সালমান খানের জন্মদিন আজ (২৭ ডিসেম্বর)। এই বিশেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখছে তার ৬০তম জন্মবার্ষিকী। দীর্ঘদিন ধরে রীতিমতো এই দিনটি উদযাপন করে আসছেন তিনি, তবে এবার তিনি জন্মদিন পালন করছেন খুবই সহজ ও আন্তরিক পরিবেশে—নিজের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং নির্বাচিত কিছু চলচ্চিত্র পরিচালকসহ কাছের মানুষদের নিয়ে, পানভেলের ফার্মহাউসে।

বৃহৎ এবং জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিবর্তে সালমানের ৬০তম জন্মদিনের উদযাপন হচ্ছে একান্ত পারিবারিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে। অতিথির তালিকা সচেতনভাবে সীমিত রাখা হয়েছে, যাতে কেবলমাত্র কাছের মানুষ এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা অংশ নিতে পারেন। সূত্রের খবর, এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো একসঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়া, স্মৃতিচারণা করা এবং আন্তরিক সময় কাটানো—বড় ধরনের কোনও আয়োজন নয়।

অভিনয়জীবনের এই বিশেষ উপলক্ষ্যে সালমানের জন্য একটি বিশেষ ট্রিবিউট ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তার তিন দশকের ক্যারিয়ারে তার সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন পরিচালক এবং প্রযোজকরা ব্যক্তি হিসেবে তাদের বার্তা দিয়েছেন। এই ভিডিওতে তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কাজের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন রোমাঞ্চকর ঘটনা ও গল্প, যা সালমানের অভিনয়জীবনের বিবর্তন এবং ভারতের সিনেমায় তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে ফুটিয়ে তুলেছে।

ভক্তরা তাকে ‘ভাইজান’ বলে ডাকে, যা শুধুমাত্র ডাকনাম নয়, বরং এক ধরনের অপরিহার্য সম্পর্কের প্রতীক। যেমন বড় ভাই পরিবারকে আগলে রাখে, তেমনই সালমান খান তার সহশিল্পী, নতুন অভিনেতা এবং চলচ্চিত্রের কলাকুশলীদের পাশে দন্ডায়মান থাকেন। অনেক নতুন মুখ সালমানের হাত ধরে বলিউডে নিজের জায়গা যাত্রা করেছেন। এই ‘ভাইজান’ হিসেবে তার পরিচিতি কখনো শুধুই জনপ্রিয়তা নয়, বরং দায়িত্ববোধের প্রকাশ। বয়স বাড়লেও তিনি একজন সময়ের চেয়েও প্রাসঙ্গিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।

এবারের জন্মদিনটি আরও বিশেষ, কারণ সালমান খান হলেন বলিউডের ‘খান’ ত্রয়ীর মধ্যে শেষ ব্যক্তি, যিনি এই বয়সে পা রাখলেন। এর আগে এই বছরই চলতি বছরে ৬০ বছর পূর্ণ করেছেন আমির খান ও শাহরুখ খান। এই বিভিন্ন ঘটনাগুলো একদিকে বলিউডে দীর্ঘ দিনের আধিপত্যের চিহ্ন রেখে যায়, অন্যদিকে প্রমাণ করে যে, বয়স বাড়ার পাশাপাশি সালমানের প্রাসঙ্গিকতা এবং তার শিল্পের মান অটুট রয়েছে। এই বিশেষ দিনটি যেন এক দীর্ঘ এবং স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি, যেখানে ট্রেডিশন, শক্তি এবং নতুন সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক অনন্য গল্প লেখা হয়েছে।