ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, এক বছরে সব কিছু সোজা হবে না

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা এখন যেসব পরিবর্তনের কথা ভাবছি, সেটি একদিনে হবে না। দীর্ঘদিনের অনাচার, অবিচার, নৈরাজ্য ও দুর্নীতির মতো সমস্যা দ্রুত সারানো সম্ভব নয়। এক বছরের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—এমন আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।

সাবেক এই নেতা বলেন, বিগত ৫৩ বছর আমাদের ক্ষমতা বদলের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেনি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে, তবে হঠাৎ করে সবকিছু সুসংগঠিত হয়ে যাবে—এটা আমি মনে করি না। এই মতবাদ আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক সুরক্ষা কতটা সুরক্ষিত’ বিষয়ে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রাজনীতি হল বিচ্ছিন্নভাবে বা জোড়াতালি দিয়ে কাজ করা নয়। সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার প্রয়োজন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্নীতির অবনতির বিষয়টি তিনি তুলে ধরে বলেন, এই দুর্নীতি দেশের সংকটের অন্যতম কারণ। সবকিছুই নির্ভর করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর, যারা ক্ষমতায় এসে দেশের পরিবর্তন নিয়ে ভাববে।

বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, ২০০৮ সালে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল, কিন্তু গত ১৫ বছরে দলের নেতা-কর্মীরা দেশকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছেন। এক বছরে সব কিছু ঠিক করার জন্য এটা বাস্তবের নয়।

তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে আমলারা। খুবই দুঃখের বিষয়, একজন স্কুলশিক্ষকের সমস্যা সমাধানে তাকে ঢাকায় যেতে হয়—এটি অপ্রয়োজনীয়। যদি সিস্টেমের কেন্দ্রীভূত অংশ সঠিকভাবে কাজ করে তবে ঘুষের মতো দুর্ব্যবহার বন্ধ হবে।

মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, খুব খারাপ লাগলেও বাস্তবতা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও নার্সিং মুহুর্তে নিয়োগ হয় দুর্নীতির মাধ্যমে। এই ধরনের অনিয়ম ও বৈষম্যের কারণে দ্রুত কিছু ফলাফল প্রত্যাশা করা কঠিন।

বিপ্লবের স্বপ্ন দেখা এখন আমাদের জন্য বাস্তব নয়—এমন কথা জানান এই নেতারা। তিনি বলেন, একমাত্র কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যেতে হবে, যেখানে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা ন্যূনতম ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। সেই ন্যায়বিচারই হবে প্রকৃত সমাজের ভিত্তি।